দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার সন্দেহে পুড়িয়ে হত্যা! এই বিষয়ে ইসলাম কি বলে?
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর: ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস কারখানার হিন্দু শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৫-২৮ বছর বয়সী) নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে এবং মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তদন্তে (র্যাব ও পুলিশ) ধর্ম অবমাননার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; অভিযোগটি গুজব বা কর্মক্ষেত্রের বিরোধ থেকে উদ্ভূত বলে মনে হয়। এ ঘটনায় ১২ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। বিভিন্ন মুসলিম নেতা এবং ধর্ম উপদেষ্টা এই নৃশংসতার নিন্দা জানিয়েছেন, বলেছেন আগুনে পুড়িয়ে হত্যা গর্হিত কাজ।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি কটুক্তি করার কারণে কাউকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম।
ইসলাম কখনো এ ধরনের নৃশংস শাস্তিকে সমর্থন করে না।
আগুন দিয়ে শাস্তি প্রয়োগ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
> “আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র আগুনের স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলার।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৩০১৬; এবং সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৬৯২২)
➡️ এর অর্থ:
জীবিত অবস্থায় আগুনে পোড়ানো বা দগ্ধ করে হত্যা করা—অপরাধ যত গুরুতরই হোক না কেন—মানুষের জন্য একেবারে নিষিদ্ধ।
নবী ﷺ স্বয়ং এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন
এক যুদ্ধাভিযানে প্রথমে আগুন ব্যবহারের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে রাসূল ﷺ বলেন:
> “আমি আগুনে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু আগুন দিয়ে শাস্তি প্রদান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য জায়েজ নয়।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৩০১৬)
➡️ অর্থাৎ, নবী ﷺ নিজেই এ ধরনের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
নবী ﷺ-এর প্রতি কটুক্তি গুরুতর অপরাধ হলেও শাস্তির সঠিক পদ্ধতি রয়েছে
নিশ্চয়ই,
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অশোভন কথা বলা ইসলামে অত্যন্ত কবিরা গুনাহ।
কিন্তু মনে রাখতে হবে:
কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উত্তেজিত জনতা নিজে থেকে শাস্তি কার্যকর করতে পারে না।
✅ শাস্তি নির্ধারণ করতে পারে শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারকারী আদালত—সাক্ষ্য-প্রমাণ, সঠিক তদন্ত ও ন্যায়ের ভিত্তিতে।
❌ গণপিটুনি, হিংসাত্মক প্রতিশোধ বা আগুনে পোড়ানো—এসবই কঠোরভাবে হারাম।
আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা নিজেই মহাপাপ ও অত্যাচার
ইসলামের দৃষ্টিতে:
কাউকে জীবন্ত দগ্ধ করা একটি ভয়ংকর কবিরা গুনাহ।
এর ফলে:
- নির্দোষ ব্যক্তিও শিকার হতে পারে
- সমাজে অশান্তি ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে
- ইসলামের প্রতি মানুষের মনে ভুল ধারণা ও ভয় সৃষ্টি হয়।
বিখ্যাত আলেমরা (যেমন ইয়াসির কাদি) বলেন: এমনকি ইসলামী দেশেও বিচার ছাড়া হত্যা অনুমোদিত নয়, অমুসলিম দেশে তো নয়ই। এই ধরনের গণপিটুনি ইসলামের শান্তি ও ন্যায়ের শিক্ষার পরিপন্থী।

0 মন্তব্যসমূহ